সাবুদানা শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী একটি খাবার যা ছোট বড় সকলেই খেয়ে থাকেন। আমাদের দেশে বেশিরভাগ শিশুর খাবারে এই সাবুদানা ব্যবহার হয়ে থাকে।সাবুদানা স্টার্চ জাতীয় খাবার হওয়ায় এটা স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে থাকে। আমাদের দেশে কারো জ্বর হলে বা বাচ্চাদের জন্য সাবুদানা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
আজকের পোস্টে সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা, সাবুদানা খাওয়ার নিয়ম ও সাবুদানা চেনার উপায় সম্পর্কে কিছু মূল্যবান তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ
সাবুদানা ইংরেজি নাম?
সাবুদানা ইংরেজি নাম হল sagu, sabudana, sago pearl ইত্যাদি।
সাবুদানা খাওয়ার উপকারিতা?
সাবুদানা খাওয়ার অসাধারণ কিছু উপকারিতা রয়েছে যা অনেকেই জানেন না। নিম্নে সাবুদানা খাওয়ার কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলঃ
হাড় মজবুত করে থাকে
যাদের হাড় অনেক দুর্বল তারা নিয়মিত সাবুদানা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সাবুদানাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে থাকে। তাই হাড়ের গঠন শক্তিশালী রাখার জন্য মাঝেমধ্যে সাবুদানা খাওয়া যেতে পারে।
ক্যান্সারের মতো সমস্যাকে দূরে রাখে
সাবুদানা খেলে ক্যান্সারের মতো রোগগুলো দূরে থাকে। কেননা সাবুদানাতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামের দুটি উপাদান যা ফ্রি রেডিক্যাল গুলো নষ্ট করে ক্যান্সারের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করে থাকে।
শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে
সাবুদানা হচ্ছে শর্করা জাতীয় খাবার যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ভিটামিন ও খনিজ লবনের মত উপাদান।
যার ফলে সাবুদানা খেলে সাথে সাথে শরীরে শক্তি পাওয়া যায়। তাই যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করে থাকেন তারা ব্যায়াম করার আগে সাবুদানা খেতে পারেন।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে
সাবুদানাতে প্রচুর পরিমাণে আশ থাকায় এটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে। তাছাড়া যাদের হজম শক্তি দুর্বল তারা নিয়মিত সাবুদানা খাওয়ার মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারবেন।
ওজন বাড়াতে সাহায্য করে থাকে
যাদের ওজন অনেক কম তারা নিয়মিত সাবুদানা খাওয়ার মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে নিতে পারেন। যেহেতু সাবুদানা একটি ক্যালরি ঘন খাবার তাই এটি খাওয়ার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
সাবুদানাতে রয়েছে পটাশিয়াম এর মত উপাদান যা উচ্চ রক্তচাপ এর মত সমস্যায় দারুন কাজ করে থাকে। নিয়মিত সাবুদানা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
ঘন ও লম্বা চুল পেতে চাইলে সাবুদানা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। সাবুদানাতে থাকা বিশেষ ধরনের প্রোটিন অকালে চুল ঝরে পড়া রোধ করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে ও খুশকির হাত থেকে মুক্তি দিয়ে থাকে। তাই চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মাঝেমধ্যে সাবুদানা খেতে পারেন।
বাচ্চাদের সাবু খাওয়ার উপকারিতা?
বাচ্চারা সাবুদানা খেলে খুবই দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাছাড়া বাচ্চাদের হাড় অনেক শক্তিশালী হয়ে থাকে ও শরীরের শক্তি পেয়ে থাকে। এইজন্য সাবুদানাকে সুনিশ্চিত ভাবে শিশুর প্রধান খাদ্য বানানো হয়েছে।
বাচ্চাকে প্রথম অবস্থায় যদি সাবুদানা খাইয়ে দেওয়া যায় তাহলে সেই বাচ্চা বড় হয়ে অনেক শক্তিশালী ও সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠবে।
সাবুদানা খাওয়ার নিয়ম?
সাবুদানার সঠিক উপকারিতা পেতে হলে অবশ্যই সাবুদানা সঠিক নিয়মে খেতে হবে। সঠিক নিয়মে না খেলে সর্বোচ্চ উপকারিতা পাওয়া সম্ভব নয়।
সাবুদানা পানিতে ভিজিয়ে খেলেই সব থেকে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়া সাবুদানা আপনারা চাইলে যেকোনো সবজির সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন।
সাবুদানা কেউ কেউ দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন আবার কেউ কেউ খিচুরির সাথে সাবুদানা খেয়ে থাকেন। তাছাড়া এমন অনেকেই রয়েছেন যারা সাবুদানার ক্ষীর বানিয়ে খেয়ে থাকেন।
গর্ভাবস্থায় সাবুদানা খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় সাবুদানা খেলে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। গর্ভবতী নারীদের ক্লান্তি দূর করতে সাবুদানা খুবই কার্যকারী। তাছাড়া সাবুদানা তে থাকা ভিটামিন বি ৬ ও ফ্লোটের মতো উপাদান ভ্রণের বিকাশ ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। তবে গর্ভাবস্থায় যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে এই অবস্থায় সাবুদানা না খাওয়াটাই ভালো।
সাবুদানা খেলে কি মোটা হয়?
সাবুদানাতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে যা সাধারণত শক্তির যোগান দিয়ে থাকে। তাই কোন ব্যক্তি যদি নিয়মিত সাবুদানা খাওয়ার অভ্যাস করে তোলেন তাহলে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে মোটা হয়ে যাবেন। সাবুদানা তে থাকা এই উচ্চ ক্যালরি মোটা হওয়ার জন্য কাজ করে থাকে।
আসল সাবুদানা চেনার উপায়?
সাবুদানা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি খাবার হলেও আসল সাবুদানা চেনা অনেক কষ্টের। সাবুদানা সরাসরি গাছ থেকে ও বার্লি থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে। সাবুদানা কয়েক ধরনের থাকলেও বাংলাদেশের শুধুমাত্র সাদা রংয়ের সাবুদানা দেখা যায়।
আর এই সাবুদানা চাইলে খুব সহজেই পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। বাংলাদেশে যে নকল সাবুদানা বা ডুব্লিকেট টা পাওয়া যায় সেটা তৈরি করা হয়ে থাকে ময়দা থেকে। প্রথমে একটি পাত্র নিবেন এবং সেই পাত্রে হালকা পানি নিবেন।
তারপরে পাত্রের পানিতে সাবুদানা দিবেন। সাবুদানা দেওয়ার পর যদি দেখেন বুদবুদ বের হচ্ছে তাহলে বুঝবেন এটা আসল সাবুদানা। আর যদি বুদবুদ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে এই সাবুদানা নকল।
তাছাড়া অরিজিনাল যে সাবুদানা রয়েছে সেটি পানিতে দেওয়ার সাথে সাথে গলে যাবে না। কিন্তু ডুপ্লিকেট সাবুদানা পানিতে দেওয়ার সাথে সাথে গলে যাবে এবং নরম হয়ে যাবে।
অরজিনাল সাবুদানা পানিতে নাড়াচাড়া করলেও অনেক স্বচ্ছ দেখাবে যেটা নকলটাতে হবে না। এভাবে আপনারা চাইলে খুব সহজেই আসল ও নকল সাবুদানা আলাদা করে চিনে নিতে পারবেন।
সাবুদানার পুষ্টিগুণ?
নিচে সাবু দানার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দেওয়া হলঃ
- ক্যালোরিঃ ৩৩২
- প্রোটিনঃ ১ গ্রাম
- ফাইবারঃ ১ গ্রাম
- ফ্যাটঃ ১ গ্রাম
- কার্বসঃ ৮৩ গ্রাম
- জিঙ্কঃ ১১% (RDI) ইত্যাদি।
সাবুদানার দাম কত | সাবুদানা কত টাকা কেজি
১ কেজি সাবুদানার দাম কত বা বর্তমানে এক কেজি সাবুদানা কত টাকা কেজি নিচ্ছে এই নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। সাবুদানার ৫০০ গ্রামের যে প্যাকটি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা নিচ্ছে।
শেষ কথা, আশা করি আজকের পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আসল সাবুদানা চেনার উপায় ও সাবুদানার উপকারিতা ও অপকারিতা,সাবুদানার দাম কত এই বিষয়ে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন।
তারপরেও যদি এই নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে বা পোস্টটি করে কোন বিষয় সম্পর্কে বুঝতে কোন ধরনের অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।